Keema Naan Recipe: উত্তর ভারতীয় খাবারের মধ্যে ‘নান’ সবসময়ই জনপ্রিয়। আর সেই নানের ভেতরে যখন মশলাদার মাংসের কিমা ভরা থাকে, তখন তার স্বাদ হয় অতুলনীয়। সাধারণত কিমা নান বানানোর জন্য তন্দুর ব্যবহার করা হয়, তবে আজ আমরা জানাব কীভাবে সাধারণ তওয়া বা ওভেনে আপনি একদম নরম ও সুস্বাদু কিমা নান (Keema Naan) তৈরি করবেন।
কিমা নান তৈরির উপকরণ। Keema Naan Recipe Ingredients
এই রেসিপিটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—নানের ডো (Dough) তৈরি এবং কিমার পুর (Stuffing) তৈরি।
১. নানের ডো তৈরির জন্য:
- ময়দা: ২ কাপ
- টক দই: ১/৪ কাপ
- বেকিং পাউডার: ১/২ চা চামচ
- বেকিং সোডা: ১/৪ চা চামচ
- চিনি: ১ চা চামচ
- লবণ: স্বাদমতো
- সাদা তেল বা ঘি: ২ টেবিল চামচ
- ঈষদুষ্ণ পানি: প্রয়োজনমতো
২. কিমার পুর তৈরির জন্য:
- মটন বা চিকেন কিমা: ২৫০ গ্রাম (একদম মিহি করা)
- পিঁয়াজ কুচি: ১টি বড়
- আদা-রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
- কাঁচামরিচ কুচি: ২-৩টি
- গরম মশলা গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
- লাল মরিচের গুঁড়ো: ১ চা চামচ
- ধনেপাতা কুচি: ২ টেবিল চামচ
- লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ
- লবণ ও তেল: পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রণালী (Step-by-Step Method of Making Keema Naan Recipe)

ধাপ ১: নানের ডো তৈরি
একটি বড় পাত্রে ময়দা, লবণ, চিনি, বেকিং পাউডার এবং সোডা মিশিয়ে নিন। এতে দই ও তেল দিয়ে ভালো করে ময়ান দিন। এবার অল্প অল্প উষ্ণ পানি দিয়ে একটি নরম ও মসৃণ ডো তৈরি করুন। ডো-এর ওপরে সামান্য তেল মাখিয়ে একটি ভিজে কাপড় দিয়ে ১-২ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এতে নান খুব নরম হবে।
ধাপ ২: কিমার পুর তৈরি
প্যানে তেল গরম করে পিঁয়াজ কুচি ভাজুন। পিঁয়াজ নরম হলে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচামরিচ দিন। এবার কিমা দিয়ে ভালো করে কষান। কিমার পানি শুকিয়ে এলে সব গুঁড়ো মশলা ও লবণ দিন। কিমা সেদ্ধ হয়ে ভাজা ভাজা হয়ে এলে ধনেপাতা কুচি ও লেবুর রস মিশিয়ে নামিয়ে নিন। পুরটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।
ধাপ ৩: পুর ভরা ও বেলা
ডো থেকে বড় লেচি কেটে নিন। হাতের সাহায্যে লেচিটি কিছুটা ছড়িয়ে মাঝখানে ২ চামচ কিমার পুর দিন। এবার মুখটি ভালো করে বন্ধ করে গোল করে নিন। সামান্য ময়দা ছিটিয়ে হালকা হাতে বেলুন যাতে কিমা বেরিয়ে না যায়। নানের ওপরে সামান্য কালো জিরে ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
ধাপ ৪: নান সেঁকা
তওয়া পদ্ধতি: মাঝারি আঁচে তওয়া গরম করুন। নানের এক পিঠে সামান্য পানি লাগিয়ে সেই পিঠটি তওয়ায় দিন। কিছুক্ষণ পর তওয়াটি উল্টে আগুনের ওপর ধরুন যাতে ওপরের অংশটি হালকা লালচে পোড়া দাগ হয়। ওভেন পদ্ধতি: ওভেনে ২০০°C তাপমাত্রায় ৪-৫ মিনিট বেক করে নিন যতক্ষণ না ওপরটা সোনালী হচ্ছে।
ধাপ ৫: পরিবেশন
গরম গরম নানের ওপর প্রচুর পরিমাণে মাখন বা ঘি ব্রাশ করুন। রাইতা, চিকেন কারি বা চাটনির সাথে পরিবেশন করুন সেরা স্বাদের কিমা নান।
সেরা কিমা নান তৈরির কিছু প্রো-টিপস
- কিমার ধরণ: কিমা যেন একদম মিহি হয়। বড় টুকরো থাকলে নান বেলার সময় ফেটে যেতে পারে।
- বিশ্রাম: ডো যত বেশি সময় বিশ্রাম পাবে, নান তত বেশি ফ্ল্যাফি বা ফোলা হবে।
- আঁচ: নান সেঁকার সময় আঁচ সবসময় মাঝারি রাখবেন, নাহলে ওপরটা পুড়ে যাবে কিন্তু ভেতরটা কাঁচা থাকবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs about Keema Naan Recipe)
১. কিমা নানে কি ইস্ট ব্যবহার করা জরুরি?
না, দই ও বেকিং সোডা ব্যবহার করলে ইস্ট ছাড়াই নরম নান তৈরি করা সম্ভব। তবে আপনি চাইলে ১ চা চামচ ড্রাই ইস্ট ব্যবহার করতে পারেন।
২. চিকেন না মটন—কোন কিমা বেশি সুস্বাদু?
মটন কিমা দিয়ে নান বেশি সুস্বাদু হয়, তবে স্বাস্থ্য সচেতনরা চিকেন কিমা অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন।
৩. কিমা কি আগে থেকে রান্না করে নিতে হবে?
হ্যাঁ, কিমা আগে রান্না করে নিলে নানের ভেতরটা কাঁচা থাকার ভয় থাকে না এবং স্বাদও বহুগুণ বেড়ে যায়।
৪. কিমা নান কতক্ষণ ভালো থাকে? এটি গরম গরম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তবে এয়ারটাইট কন্টেনারে রাখলে ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নরম থাকে। খাওয়ার আগে সামান্য গরম করে নিন।
৫. কিমা কি নানের বদলে আটা দিয়ে বানানো যায়?
অবশ্যই। স্বাস্থ্যকর অপশন চাইলে আপনি ময়দার বদলে আটা ব্যবহার করতে পারেন, তবে টেক্সচারে সামান্য তফাত হবে।
উপসংহার
ছুটির দিনের দুপুরে বা রাতের ডিনারে স্পেশাল কিছু বানাতে চাইলে এই কিমা নানের কোনো বিকল্প নেই। খুব কম উপকরণে এবং সহজে এটি আপনার রান্নাঘরেই তৈরি করা সম্ভব। আজই ট্রাই করুন আর বাড়ির সবার মন জয় করে নিন!
আপনি কি এই রেসিপিটি ট্রাই করেছেন? কমেন্টে আমাদের জানান কেমন লাগলো! এমন আরও সুস্বাদু রেসিপি পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।




Leave a Comment