Priyanka Chopra Life Choices Lesson for Women: রাতে ঘুমানোর আগে পুরোনো কথা ভেবে কি আপনারও কষ্ট হয়? মনে হয় কি, “ইশ! ওই বয়সে ওই ভুল সিদ্ধান্তটা যদি না নিতাম!” আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু ভুল করি। এই ভুলগুলোর জন্য আমরা সারা জীবন নিজেদের দোষ দিতে থাকি। আমরা নিজেদের ওপর ভীষণ রাগ করি। কিন্তু গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও এর ব্যতিক্রম নন।
সম্প্রতি ‘শে দ্য পিপল’ পেজের একটি পোস্টে তাঁর একটি অসাধারণ উক্তি দেখা গেছে। সেখানে তিনি অত্যন্ত আবেগ নিয়ে বলেছেন যে, তিনি তাঁর অল্প বয়সের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তগুলোকে আজ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর সেই পুরোনো কাজগুলোর সাথে আজকের প্রিয়াঙ্কা একদমই একমত নন। তবুও তিনি তাঁর সেই পুরোনো ‘আমি’টার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ। কারণ সেই মেয়েটির জন্যই তিনি আজ এই সফল জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন।
তাঁর এই কথাগুলো আমাদের সবার মনের খুব কাছের। কিন্তু আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত সফল একজন মানুষ কম বয়সে কী এমন ভুল করেছিলেন? আসুন, আজ তাঁর জীবনের সেই না-বলা ভুলগুলোর গল্প শুনি।
কিন্তু কী এমন ভুল করেছিলেন আমাদের ‘দেশি গার্ল’?
বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় প্রিয়াঙ্কার জীবনটা রূপকথার মতো। তিনি বিশ্বসুন্দরী হয়েছেন, বলিউডে রাজত্ব করেছেন এবং হলিউডেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না।
খুব অল্প বয়সে তিনি বিনোদন জগতে পা রেখেছিলেন। তখন তাঁর কোনো গডফাদার ছিল না। চারপাশের মানুষের কথা শুনে এবং নিজের ভয় থেকে তিনি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই ভুলগুলো তাঁর ক্যারিয়ার এবং মানসিক শান্তি প্রায় কেড়ে নিতে বসেছিল। তিনি তাঁর আত্মজীবনী ‘আনফিনিশড’ (Unfinished) এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই ভুলগুলোর কথা খুব সাহসের সাথে স্বীকার করেছেন।
ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপন: যে ভুলের গ্লানি তাঁকে অনেকদিন তাড়া করেছে!
আমাদের সমাজে মেয়েদের গায়ের রঙ নিয়ে এক ধরনের নোংরা অবসেসন আছে। সমাজ আমাদের শেখায় যে ফর্সা না হলে জীবনে সফল হওয়া যায় না। প্রিয়াঙ্কা নিজেও এই বর্ণবাদের শিকার হয়েছিলেন। ছোটবেলায় তাঁকে তাঁর গায়ের শ্যামলা রঙের জন্য অনেক কথা শুনতে হতো।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি একটি বড় ভুল করে বসেন। তিনি বেশ কয়েকটি ‘ফেয়ারনেস ক্রিম’ বা ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপন করেছিলেন। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে হয়তো এটাই নিয়ম। কিন্তু একটু বড় হওয়ার পর তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, এই বিজ্ঞাপনগুলো করে তিনি আসলে অন্য মেয়েদের মনেও গায়ের রঙ নিয়ে হীনম্মন্যতা তৈরি করছেন।
পরবর্তীতে তিনি প্রকাশ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সেই বয়সে ওই বিজ্ঞাপনগুলো করা তাঁর জীবনের একটি বড় ভুল ছিল। আজকের প্রিয়াঙ্কা সেই পুরোনো প্রিয়াঙ্কার এই সিদ্ধান্তের সাথে একদমই একমত নন।

নিজেকে বদলাতে গিয়ে যখন নিজেরই সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে ফেললেন…
অল্প বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে আমাদের সবার মনেই একটা খুঁতখুঁতে ভাব থাকে। বিনোদন জগতে সুন্দর দেখানোর চাপটা আরও অনেক বেশি। ২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কার নাকের একটি সমস্যা দেখা দেয়। নাকের ভেতরে একটি ছোট্ট মাংসপিণ্ড বা পলিপ বাদ দেওয়ার জন্য তিনি একটি সাধারণ সার্জারি করান।
কিন্তু সেই সার্জারিটি সম্পূর্ণ ভুলভাবে করা হয়েছিল। এর ফলে তাঁর নাকের আকার একদম বদলে যায়। তাঁর আসল চেহারাটাই হারিয়ে যায়। এই ভুল সার্জারির জন্য তাঁকে বলিউড থেকে ‘প্লাস্টিক চোপড়া’ বলে অপমান করা হতো। এই একটি ভুলের কারণে তাঁকে পরপর দুটি বড় সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন এবং হতাশাজনক একটি সময়। অল্প বয়সে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত তাঁর পুরো ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে বসেছিল। তিনি এই ভুলের জন্য নিজেকে অনেক দিন ক্ষমা করতে পারেননি।
ভুল মানুষের ওপর ভরসা করাটা কি সত্যিই কোনও অপরাধ?
নতুন কোনও জায়গায় গেলে আমরা অনেক সময় ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি। প্রিয়াঙ্কাও বলিউডের শুরুতে এমন কিছু মানুষকে বিশ্বাস করেছিলেন, যারা তাঁর ভালো চায়নি। অনেক সময় না চাইতেও তিনি কিছু বাজে সিনেমায় সই করেছিলেন।
তিনি সেই বয়সে সবাইকে খুশি করতে চাইতেন। ‘না’ বলতে পারতেন না। এই অতিরিক্ত ভালোমানুষি এবং ভুল মানুষকে বিশ্বাস করাটা তাঁর জন্য ক্ষতিকর ছিল। এই সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তাঁকে অনেক মূল্য চোকাতে হয়েছিল। কিন্তু এই ভুলগুলোই তাঁকে চিনতে শিখিয়েছে কে আসল বন্ধু আর কে স্বার্থপর।
কেন নিজের সেই বোকা ‘আমি’টাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা করা এতটা জরুরি?
প্রিয়াঙ্কার জীবনের এই ভুলগুলো জানলে মনে হয়, আহারে! মেয়েটা কত কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা তাঁর পোস্টে একটি খুব সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি তাঁর সেই পুরোনো নিজেকে আজ আর দোষ দেন না।
একটু ভেবে দেখুন তো! আপনার বয়স যখন ২০ বা ২২ ছিল, তখন কি আপনি আজকের মতো এত পরিণত ছিলেন? একদমই না। সেই বয়সে আমাদের অনেক ভয় থাকে। আমরা সমাজকে খুশি করতে চাই। সেই বয়সে আমরা যা বুঝি, সেই অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ারই চেষ্টা করি।
প্রিয়াঙ্কার সেই কম বয়সী ভার্সনটাও ঠিক একই কাজ করেছিল। সে ভয় পেয়েছিল, ভুল করেছিল, কিন্তু সে কখনো হার মানেনি। ওই ভুলগুলো না করলে প্রিয়াঙ্কা আজ এত পরিণত, এত শক্ত এবং এত সফল হতে পারতেন না। তাই নিজের অতীতকে ঘৃণা না করে, তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।
প্রিয়াঙ্কার এই গল্পটা আসলে আপনার, আমার, আমাদের সবার!
এই গল্পটা শুধু একজন বলিউড তারকার নয়। এই গল্পটা আমাদের প্রত্যেকটা সাধারণ মেয়ের। আমরা সবাই কোনো না কোনো দিন ভুল প্রেমে পড়েছি। ক্যারিয়ারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাগের মাথায় এমন কিছু বলেছি, যার জন্য আজ আমাদের আফসোস হয়।
কিন্তু আজ সময় এসেছে নিজের ওপর থেকে সেই রাগের বোঝাটা নামিয়ে ফেলার। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পুরোনো ‘আমি’টাকে একবার বলুন, “আমি জানি তুমি তখন ভয় পেয়েছিলে। আমি জানি তুমি ভুল করেছিলে। কিন্তু আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।”
আপনার ওই অতীতটাই আপনাকে আজকের এই সুন্দর এবং শক্ত মানুষে পরিণত করেছে। প্রিয়াঙ্কার মতো আপনারও উচিত নিজের অতীতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। নিজের ভুলগুলোকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করুন। দেখবেন, জীবনটা অনেক হালকা এবং সুন্দর মনে হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs about Priyanka Chopra Life Choices Lesson for Women)
১. ভাইরাল হওয়া ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আসলে কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
ভাইরাল ছবিতে প্রিয়াঙ্কা বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তাঁর অল্প বয়সে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তগুলোকে আজ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সেই ভুলগুলোই তাঁকে আজকের সফল মানুষে পরিণত করেছে বলে তিনি নিজের অতীতের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
২. ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এমন কী ভুল করেছিলেন, যার জন্য তিনি পরে অনুতপ্ত হন?
ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি গায়ের রঙ ফর্সা করার ক্রিমের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। পরে বর্ণবাদের খারাপ দিক বুঝতে পেরে তিনি এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
৩. অল্প বয়সে প্রিয়াঙ্কার কোন শারীরিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর ক্যারিয়ার নষ্ট হতে বসেছিল?
খুব কম বয়সে তিনি নাকের একটি পলিপ রিমুভাল সার্জারি করিয়েছিলেন, যা ভুলভাবে হওয়ায় তাঁর মুখের আদল বদলে যায় এবং এর কারণে তাঁকে অনেক সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
৪. আমরা কেন আমাদের অতীতের ভুলগুলোর জন্য নিজেদের ক্ষমা করতে পারি না?
কারণ আমরা সবসময় বর্তমানের বুদ্ধি দিয়ে অতীতের পরিস্থিতি বিচার করি। আমরা ভুলে যাই যে, সেই বয়সে আমাদের আজকের মতো এত জ্ঞান, সাহস বা পরিণত বোধ ছিল না।
৫. অতীতের ভুলগুলো থেকে আমাদের আসলে কী শেখা উচিত?
আমাদের শেখা উচিত যে, কোনও ভুলই চূড়ান্ত নয়। ভুল সিদ্ধান্তগুলো আমাদের জীবনের শেষ কথা নয়, বরং সেগুলো এক একটি সিঁড়ি, যা আমাদের আরও পরিণত এবং শক্তিশালী হতে সাহায্য করে।




Leave a Comment