How to Make Eggless Cupcakes Recipe: বিকেলের দিকে অনেক সময় বাচ্চাদের হঠাৎ করে মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছে করে। আবার কখনও কখনও আমাদের নিজেদেরও চায়ের সাথে একটু কেক খেতে মন চায়। আপনি হয়তো উৎসাহ নিয়ে ফ্রিজ খুললেন, কিন্তু দেখলেন ঘরে একটাও ডিম নেই! মনটা কি খারাপ হয়ে গেল? অথবা আপনি হয়তো নিরামিষ খান, তাই ডিম দেওয়া কেক আপনার একদমই পছন্দ নয়।
তাহলে উপায়? চিন্তা করার একদম কোনো কারণ নেই। ডিম ছাড়াই যে কত সুন্দর, নরম আর তুলতুলে কেক বানানো যায়, তা একবার নিজে হাতে না বানালে আপনি বিশ্বাসই করতে পারবেন না।
আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একদম বেকারির মতো পারফেক্ট ‘এগলেস কাপকেক’ বা ডিম ছাড়া কাপকেক বানানোর এক জাদুকরী রেসিপি। এই কাপকেকগুলো ছোট ছোট দেখতে হয় বলে বাচ্চারা এগুলো হাতে নিয়ে খেতে খুব ভালোবাসে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি বানাতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। আসুন, আজ রান্নাঘরে একটু ম্যাজিক করা যাক!
আরও পড়ুন: প্রেসার কুকারেই বানিয়ে ফেলুন নরম তুলতুলে কেক! সহজ রেসিপি ও গোপন টিপস
কাপকেকগুলো বানানোর জন্য কী কী লাগবে (How to Make Eggless Cupcakes Recipe Ingredients)?
এই কাপকেকগুলো বানানোর জন্য আপনাকে বড় কোনো সুপারমার্কেটে ছুটতে হবে না। আপনার রান্নাঘরের তাকে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়েই এই সুন্দর কেক তৈরি হয়ে যাবে। চলুন দেখে নিই আমাদের কী কী লাগবে:
- ময়দা: দেড় কাপ (খুব ভালো করে চেলে নেওয়া)।
- গুঁড়ো চিনি: ১ কাপ (মিক্সিতে চিনি গুঁড়ো করে নিলে খুব সহজে গলে যায়)।
- সাদা তেল: আধা কাপ (যেকোনো গন্ধহীন তেল, যেমন—সানফ্লাওয়ার অয়েল। তেলের বদলে গলানো মাখনও ব্যবহার করতে পারেন)।
- হালকা গরম দুধ: ১ কাপ।
- সাদা ভিনেগার বা লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ (এটিই হলো আমাদের ডিমের বিকল্প!)।
- ভ্যানিলা এসেন্স: ১ চা চামচ (সুন্দর গন্ধের জন্য)।
- বেকিং পাউডার: ১ চা চামচ।
- বেকিং সোডা: আধা চা চামচ (এটি কেককে স্পঞ্জি করতে দারুণ সাহায্য করে)।
- লবণ: এক চিমটি (মিষ্টির স্বাদটা ব্যালেন্স করার জন্য)।
জেনে নিন ধাপে ধাপে কাপকেক তৈরির সম্পূর্ণ পদ্ধতি

কাপকেক বানানোটা আসলে একটি দারুণ মজার কাজ। নিচে দেওয়া ধাপগুলো পর পর মেনে চললে আপনার কাপকেকও হবে একদম বেকারির মতো পারফেক্ট:
- ধাপ ১: ডিমের বিকল্প ‘বাটারমিল্ক’ তৈরি করা প্রথমে একটি বাটিতে এক কাপ হালকা গরম দুধ নিন। এর মধ্যে ১ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার বা পাতিলেবুর রস দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে একবার নেড়ে বাটিটা ১০ মিনিটের জন্য ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। ১০ মিনিট পর দেখবেন দুধটা একটু ছানা ছানা বা ফাটা ফাটা হয়ে গেছে। ভয় পাবেন না, দুধ নষ্ট হয়নি! এটাই হলো আমাদের বাটারমিল্ক, যা বেকিং সোডার সাথে মিশে কেকটিকে স্পঞ্জি করে ফোলাতে সাহায্য করবে।
- ধাপ ২: তরল বা ভেজা উপকরণগুলো মেশানো ১০ মিনিট পর তৈরি করা বাটারমিল্কের মধ্যে গুঁড়ো করা চিনি এবং সাদা তেল দিয়ে দিন। সাথে ভ্যানিলা এসেন্সটাও দিয়ে দিন। এবার একটি হ্যান্ড হুইস্ক বা চামচ দিয়ে মিশ্রণটি খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন, যাতে চিনিটা পুরোপুরি গলে যায় এবং তেলের সাথে মিশে যায়।
- ধাপ ৩: শুকনো উপকরণগুলো চেলে নেওয়া এবার এই তরল মিশ্রণের ওপর একটি চালুনি রাখুন। চালুনির মধ্যে ময়দা, বেকিং পাউডার, বেকিং সোডা এবং এক চিমটি লবণ দিয়ে চেলে নিন। ময়দা সবসময় চেলে ব্যবহার করবেন, এতে কেকের ভেতরে বাতাস ঢোকে এবং কেক অনেক বেশি হালকা হয়। কোনো দলা পাকিয়ে থাকে না।
- ধাপ ৪: আলতো হাতে ব্যাটার তৈরি (কাট অ্যান্ড ফোল্ড) সবশেষে একটি স্প্যাচুলা বা চামচ দিয়ে মিশ্রণটি খুব আলতো হাতে এক দিকে ঘোরাতে থাকুন। ব্যাটারটি খুব বেশি জোরে বা তাড়াহুড়ো করে ঘাটবেন না। খুব বেশি ঘাটলে কেক শক্ত হয়ে যাবে। ব্যাটারটি একদম মসৃণ বা স্মুথ হয়ে গেলে বুঝবেন কেকের মিশ্রণ একদম রেডি।
- ধাপ ৫: কাপকেকের ছাঁচে ঢালা এবং বেক করা কাপকেক বানানোর ছাঁচে ছোট ছোট কাগজের লাইনার বসিয়ে নিন। কাপগুলোর তিন ভাগের দুই ভাগ (2/3) ব্যাটার দিয়ে ভর্তি করুন, বাকিটা ফাঁকা রাখুন।
- ওভেনের ক্ষেত্রে: ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (180°C) ১০ মিনিট প্রি-হিট করা ওভেনে কাপকেকগুলো ঢুকিয়ে দিন। ১৫-২০ মিনিট বেক করুন।
- কুকারের ক্ষেত্রে: কুকারের নিচে এক কাপ লবণ বিছিয়ে দিন এবং তার ওপর একটি স্ট্যান্ড বসান (সিটি ও রিং ছাড়া)। মাঝারি আঁচে কুকারটিকে ১০ মিনিট গরম করে নিন। এবার অত্যন্ত সাবধানে একটি স্টিলের প্লেটে কাপকেকের বাটিগুলো সাজিয়ে স্ট্যান্ডের ওপর বসিয়ে দিন। কম আঁচে ২০ থেকে ২৫ মিনিট বেক করুন।
- ধাপ ৬: টুথপিক টেস্ট এবং পরিবেশন নির্দিষ্ট সময় পর কেকের ঠিক মাঝখানে একটি পরিষ্কার টুথপিক ঢুকিয়ে দেখুন। টুথপিক পরিষ্কার বের হলে কেক রেডি! সঙ্গে সঙ্গে ছাঁচ থেকে বের না করে, অন্তত ১০ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। তারপর সাবধানে তুলে পরিবেশন করুন।
যে ছোট ছোট ভুলে আপনার কেক শক্ত হয়ে যেতে পারে!
প্রথমবার কেক বানাতে গিয়ে আমরা অনেকেই কিছু ছোট ভুল করে ফেলি। একটু খেয়াল রাখলেই এই ভুলগুলো এড়ানো যায়:
- ওভেন বা কুকার বারবার খোলা: কেক বেক হওয়ার সময় বারবার দরজা বা ঢাকনা খুলে দেখবেন না। এতে ভেতরের গরম বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কেক মাঝখান থেকে চুপসে যায়।
- ওভারমিক্সিং বা বেশি ফেটানো: ময়দা দেওয়ার পর ব্যাটারটি খুব বেশি ফেটাবেন না। বেশি ফেটালে কেকের ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কেক রবারের মতো শক্ত হয়ে যায়।
- গরম অবস্থায় বের করা: কেক গরম থাকা অবস্থায় খুব নরম থাকে। তখন বের করতে গেলে ভেঙে যেতে পারে। তাই পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার জন্য সময় দিন।
বাচ্চার মুখের ওই মিষ্টি হাসিটার জন্যই তো এত কিছু!
ঠান্ডা হওয়া কাপকেকগুলোর ওপর আপনি চাইলে একটু চকোলেট ক্রিম বা সাধারণ হুইপড ক্রিম দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন। আবার এমনি এমনি চায়ের সাথে খেতেও এটি অসাধারণ লাগে। নিজের হাতে বানানো এই নরম তুলতুলে কাপকেক যখন আপনার বাচ্চার হাতে দেবেন, তখন ওর মুখের সেই আনন্দের হাসিটা আপনার সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর করে দেবে। ডিম নেই বলে আর কেক বানানো থামাবেন না। আজই রান্নাঘরে যান এবং নিজের হাতে তৈরি করুন এই ম্যাজিক!
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs about How to Make Eggless Cupcakes Recipe)
১. ডিম ছাড়া কাপকেক বানানোর সময় ভিনেগার ব্যবহার করা কেন জরুরি?
ভিনেগার দুধের সাথে মিশে বাটারমিল্ক তৈরি করে। এই বাটারমিল্ক কেকের বেকিং সোডার সাথে রিঅ্যাক্ট করে ছোট ছোট বুদবুদ তৈরি করে, যার ফলে ডিম ছাড়াই কেক খুব সুন্দর ফুলে ওঠে।
২. আমি কি সাদা ভিনেগারের বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারি?
হ্যাঁ, আপনার কাছে ভিনেগার না থাকলে আপনি সমপরিমাণ পাতিলেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনি ভিনেগার ও দুধের মিশ্রণের বদলে সরাসরি আধা কাপ টক দইও ব্যবহার করতে পারেন।
৩. কাপকেকের কাগজের লাইনার বা ছাঁচ না থাকলে কী করব?
কাগজের লাইনার না থাকলে আপনি স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের ছোট ছোট বাটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাটিতে ব্যাটার ঢালার আগে অবশ্যই একটু তেল মাখিয়ে সামান্য ময়দা ছড়িয়ে নেবেন।
৪. ময়দার বদলে কি আটা দিয়ে এই কাপকেক বানানো যাবে?
হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই আটা ব্যবহার করতে পারেন। তবে আটার কেক ময়দার কেকের মতো একদম সাদা এবং হালকা হয় না। আটার কেক কিছুটা ভারী এবং ঘন হয়, তবে খেতে বেশ স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু হয়।
৫. তৈরি করা কাপকেক কত দিন পর্যন্ত ভালো থাকে?
পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর কাপকেকগুলো একটি এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে রাখুন। ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় এগুলো ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত একদম নরম এবং ফ্রেশ থাকে। ফ্রিজে রাখলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।


Leave a Comment