First Indian Woman Olympic Medallist: ভারতে খেলাধুলা সবসময়ই পুরুষদের দখলে ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও, মহিলারা সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন কর্ণম মল্লেশ্বরী। ছোটবেলায় শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন তিনি, অথচ তাঁর চার বোন ভারোত্তোলনে অনেক ভালো ছিলেন। ‘ভারত কি বেটি’র দুর্বলতার কারণে, সবাই তাঁকে ভারোত্তোলন ছেড়েও দিতে বলেছিল। কর্নমের মা সেই সময় তাঁকে উৎসাহিত করেন, আজ তিনি ভারোত্তোলনে লেজেন্ড। আজ তাঁকেই চিনিয়ে দেবে ‘আমরা নারী আমরা পারি।’
কীভাবে ‘ভারত কি বেটি’ হয়ে উঠলেন কর্ণম মল্লেশ্বরী। First Indian Woman Olympic Medallist
অন্ধ্র প্রদেশের বাসিন্দা, কর্ণম মল্লেশ্বরীব্রোঞ্জ পদক জয়ের আগে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছিলেন। মল্লেশ্বরী “দ্য আয়রন লেডি” নামেও পরিচিত। আর এই আয়রন লেডির পিছনে ছিলেন একজন মহিলা যিনি তাকে ইতিহাস তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। সেই মহিলা আর কেউ নন, কর্নম মল্লেশ্বরীর মা শ্যামলা।
২০০০ সালে ভারতের হয়ে কর্ণম মল্লেশ্বরী ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন
২৫ বছর বয়সে, ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে, কর্ণম স্ন্যাচ বিভাগে ১১০ কিলোগ্রাম এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৩০ কিলোগ্রাম ওজন তুলেছিলেন। উভয় রাউন্ডেই তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করে ভারতের অলিম্পিক পদক জয়ী প্রথম মহিলা হয়েছিলেন।
সিডনি অলিম্পিকের আগে, তাঁর কাছ থেকে পদকের জন্য কেউ খুব বেশি আশা করেনি। কারণ ১৯৯৬ সালের পর থেকে তিনি কোনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক জেতেননি এবং এমনকি তাঁর ওজন শ্রেণী ৬৯ কেজিতে নামিয়ে এনেছিলেন। তা সত্ত্বেও, মল্লেশ্বরী সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ২ স্বর্ণপদক জিতেছেন
জুনিয়র লেভেলের পর, কর্ণম সিনিয়র ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছিলেন। ১৯৯৩ সালে, তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জেতার পর তিনি ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালে আরও দু’ টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক যেতেন। অবশেষে, ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে, যখন মহিলাদের ভারোত্তোলন প্রথমবারের মতো গেমসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি তাঁর অভিষেকেই ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেন।
ভারোত্তোলন করতে আগে ভালো লাগত না কর্ণমের
কর্ণম আগে ভারোত্তোলক হতে চাইতেন না। ১৯৯০ সালে, তাঁর ভারোত্তোলক জীবনে অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। আসলে, কর্ণম ১৯৯০ সালের এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লিওনিড তারানেঙ্কোকে দেখে অনুপ্রাণিত হন।
আসলে গল্পটি বেশ মজার। ১৯৯০ সালে কর্ণমের জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন আসে এশিয়ান গেমসের আগে একটি জাতীয় শিবিরে। কর্ণম তাঁর বোনের সাথে একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, দর্শক হিসেবে গিয়েছিলেন সেখানে। এই সময়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লিওনিদ তারানেঙ্কো তাঁকে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রতিভা চিনতে পারেন এবং তার কিছু দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করার পর তাকে বেঙ্গালুরু স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে পাঠান।
সেখান থেকে, কর্ণম তাঁর প্রতিভা প্রদর্শন শুরু করেন, একই বছর তার প্রথম জুনিয়র জাতীয় ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ৫২ কেজি ওজন বিভাগে নয়টি জাতীয় রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। এক বছর পরে, তিনি তাঁর প্রথম সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জিতে নেন।
অলিম্পিক জয়ী প্রথম ভারতীয় মহিলা সম্পর্কিত প্রশ্ন। FAQs About First Indian Woman Olympic Medallist
কর্ণম মল্লেশ্বরী কে?
১ জুন ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন কর্ণম মল্লেশ্বরী। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা ভারোত্তোলক। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম অলিম্পিকে কোনও পদক জেতেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেলরত্ন লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত হন কর্ণম মল্লেশ্বরী।
কর্ণম মল্লেশ্বরী কোন সালে অলিম্পিক পদক জয় করেন?
২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে ‘স্ন্যাচ’ এবং ‘ক্লিন অ্যান্ড জার্ক’ বিভাগে যথাক্রমে ১১০ কেজি এবং ১৩০ কেজি ওজন তুলে মোট ২৪০ কেজি ওজন তোলেন কর্ণম মল্লেশ্বরী। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতে সম্মানজনক পদক অর্জন করেন কর্ণম।
ভারতের প্রথম মহিলা ভারোত্তোলক কে?
প্রথম ভারতীয় মহিলা ভারোত্তোলক যিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তাঁর নাম কর্ণম মল্লেশ্বরী। ১৯৯৩ সালে তাঁর প্রথম ভারোত্তোলন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, মল্লেশ্বরী ৫৪ কেজিতে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।




Leave a Comment