Top 5 Household Things That Negatively Affect Mental Peace at Home: সকালে বাড়ি থেকে বেরোনো থেকে শুরু করে দীর্ঘ ব্যস্ত দিনের পর বাড়ি ফেরা পর্যন্ত, আপনার ঘর-সংসার আপনার জন্য শান্তির জায়গা হওয়া উচিত। সেখানেও যদি মানসিক অশান্তি লেগে থাকে, শান্তির খোঁজ পাবেন কোথায়! আর জানেন আপনার ঘরেই থাকা বেশ কিছু জিনিস আপনার সামগ্রিক সুখ এবং শান্তির অনুভূতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সেই ৫ ঘরোয়া জিনিসের নাম জেনে নেব, যা আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।
মনের শান্তি নষ্ট করে যে ৫ ঘরোয়া জিনিস (Top 5 Household Things That Negatively Affect Mental Peace at Home)
আপনার নিত্য জীবনযাপন, একান্ত অভ্যাস অনেক সময় আপনার মানসিক শান্তি নষ্টের কারণ হতে পারে – Know Top 5 Household Things That Negatively Affect Mental Peace at Home Here।
ভাঙা বা বন্ধ ঘড়ি মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে
বাস্তুশাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞান বলে, ভেঙে যাওয়া ঘড়ি অবহেলায় পড়ে থাকলে মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়। বন্ধ ঘড়ি বাড়িতে রাখলেও তা নেতিবাচক শক্তি বাড়ায়, মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। জীবনের গাড়িকে স্থবির করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে।
জমে থাকা অতিরিক্ত জঞ্জাল মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে
বাড়ির মধ্যে অগোছালো পরিবেশ এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমে থাকলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। এটি মনের শান্তি নষ্ট করে। এছাড়াও রান্নাঘরের বেসিনে বা কলতলায় পড়ে থাকা এঁটো বাসন, নোংরা থালা-বাটি ঘরের পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে, মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়।
অ্যাকোরিয়ামে মরা বা শুকিয়ে যাওয়া গাছ মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে
বাস্তুশাস্ত্র এবং ফেংশুই বলে, মরা বা পচে যাওয়া গাছ নেতিবাচক শক্তি বা ‘ডেড এনার্জি’ বহন করে। কারণ প্রিয় মাছের কষ্ট বা মৃত্যু অত্যন্ত পীড়াদায়ক, যা মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়াও মনে রাখবেন, পচা পাতা থেকে জলে অ্যামোনিয়া বাড়তে পারে, যা জলের স্বচ্ছতা কমিয়ে দুর্গন্ধ বাড়ায় এবং পরিবেশ নষ্ট করে।
অপর্যাপ্ত আলো মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে
ঘরের মধ্যে রোড প্রবেশ করা একান্ত জরুরি। মনে রাখবেন, সূর্যের আলো শরীরে ‘সেরোটোনিন’ বা ‘ফিল-গুড’ হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর অভাব হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে গিয়ে মন খারাপ বা বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে।এছাড়াও কম আলোতে কাজ করলে চোখের উপর চাপ পড়ে মাথাব্যথা এবং মানসিক বিরক্তি তৈরি করে।
অতিরিক্ত টেকনোলজির সান্নিধ্য ও জট পাকানো তার মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে
সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং নোটিফিকেশনের শব্দ মস্তিষ্ককে সবসময় ‘অ্যালার্ট’ মোডে রাখে, যা স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও টেবিলের নিচে বা টিভির পেছনে জট পাকানো তারের স্তূপ ‘ভিজ্যুয়াল নয়েজ’ তৈরি করে বিরক্তি সৃষ্টি করে।

যে ৫ উপায়ে মনের শান্তি খুঁজে পাবেন (10 Ways to Find Mental Peace)?
সংসারে সুখ-শান্তি বাড়ানোর অনেক উপায় রয়েছে।
১. ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘর সাজাতে হয় কীভাবে (How to Decorate Bedroom for Better Sleep)?
আপনার এমন একটি জায়গা প্রয়োজন যেখানে রাতে শান্তির ঘুম ঘুমোতে পারেন। এর জন্য বিছানায় পাতার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ গদি কিনুন। বেডরুমের জানালা থেকে দক্ষিণের হাওয়া আসলে ভালো। জানালা দরজার পর্দা হালকা রঙের হওয়া জরুরি। ঘুমানোর সময় ফোন এবং টিভি স্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। বেডরুমে যাতে কোনও গন্ধ না থাকে। ল্যাভেন্ডার, ভ্যানিলা এবং চন্দন কাঠের গন্ধ অত্যন্ত উপকারি হতে পারে। শোবার ঘরের আলো হালকা রাখা ভালো।
২.কাজের সীমা নির্ধারণ করুন
যদি আপনি ক্রমাগত কাজ করতে থাকেন, তাহলে আপনার বার্নআউট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। NCBI-এর একটি গবেষণা বলছে যে বার্নআউট হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়াতে, আপনার বাড়িতে কাজের সীমানা নির্ধারণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি অফিসে কাজ করেন, তাহলে আপনার বাড়িতে ফিরে আর কাজ না করার চেষ্টা করুন।
৩. স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে
এই ডিজিটাল যুগে, আমাদের কম্পিউটার থেকে শুরু করে ফোন, টেলিভিশন, এই ধরনের স্ক্রিন টাইম কমানো জরুরি। বাচ্চাদের জন্য স্ক্রিন টাইমের দিকে খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি। শিশু এবং তরুণদের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যারা কম ঘন ঘন স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন ঘিরে থাকে।
৪. এক গ্লাস জল খেয়ে সকাল শুরু করুন
রাতে, আপনার বিছানার পাশের টেবিলে এক গ্লাস জল রাখুন। H2O দিয়ে শুরু করুন সকাল। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কফি মেকারের দিকে না গিয়ে, শরীরকে পানিশূন্য হওয়ার হাত থেকে মুক্তি দিতে প্রতিদিন এক গ্লাস জল দিয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
৫. ডায়েরি লেখার চেষ্টা করুন
জার্নালিং এমন একটি হাতিয়ার যা আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্য অনুসারে, নিয়মিত নিজের নিত্যদিনের জীবনযাপন সংক্রান্ত বিষয়ে ডায়েরি লিখলে স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতা বাড়বে। মনের লুকিয়ে থাকা কষ্ট, চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে জার্নালিং আপনার জীবনে শান্তি বয়ে আনে। এর জন্য নিজের পছন্দের কোনও জায়গায় বসে একটি নির্দিষ্ট সময়ে লেখা শুরু করুন।
নারীর সংসারে শান্তি ফেরানো সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs About Top 5 Household Things That Negatively Affect Mental Peace at Home)
প্রশ্ন: সংসারে শান্তি বজায় থাকবে কীভাবে (How to Maintain Peace in Family Life)?
উত্তর:সংসারে শান্তি বজায় রাখতে হলে কিছু স্বার্থত্যাগ যথেষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ধূমপান এসব অভ্যাসে রাশ টানতে শিখুন। আপনার সংসারের প্রিয় মানুষটির পছন্দ-অপছন্দের দামও দিতে শিখুন। গুরুজনদের অসম্মান, অগোছালো বাড়ি অশান্তির বড় কারণ হতে পারে।
প্রশ্ন: ঘরের কোন কোন জিনিস মনের শান্তি নষ্ট করে?
উত্তর: বাস্তু শাস্ত্র অনুসারে, অবহেলায় পড়ে থাকা ঘরের একাধিক জিনিস আপনার মনের শান্তি নষ্টের কারণ হতে পারে। ঘরের অগোছালো জিনিসপত্র, ভাঙা কিংবা অপ্রয়োজনীয় জিনিস, অতিরিক্ত ডিজিটাল গ্যাজেট, শোবার ঘরে টিভি ও কম্পিউটার, ভুল জায়গায় রাখা আয়না সংসারকে বিপর্যস্ত করে তোলে। মৃত বা দুর্বল গাছপালা নেতিবাচক শক্তি বাড়িয়ে মনের শান্তি নষ্ট করে।
প্রশ্ন: কোন ঘরোয়া অভ্যাস মানসিক শান্তি নষ্ট করে (Habits That Destroy Mental Peace at Home)?
উত্তর: আপনার কিছু একান্ত ঘরোয়া অভ্যাস মানসিক শান্তি নষ্ট করে। অতিরিক্ত চিন্তা করা (rumination), একবারে একাধিক কাজ করা বা মাল্টিটাস্কিং (multitasking), অসম্পূর্ণতাকে মেনে নিতে না পারা, এবং অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক শান্তি নষ্ট করে। এছাড়াও অতীতের কথা মনে করে কষ্ট পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন: রাতে ভালো ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশ কেমন হওয়া দরকার (Best Home Environment for Good Sleep)?
উত্তর: জ্যোতিষ মতে, ভালো ঘুমের জন্য সর্বদা রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে শুতে হবে। জানালায় পর্দা দিয়ে রাখুন। ঘর যাতে পরিষ্কার থাকে, বিছানা বালিশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। যদি সম্ভব হয়, শোবার ঘরের রং হালকা রাখুন, মানসিক শান্তি বাড়বে। ভালো ঘুম হবে। বিছানার আশেপাশে কোনও ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট রাখবেন না।
মনে রাখবেন, নারী মানেই শক্তি। মনে অদম্য সাহস, ইন্দ্রিয়ে জেদ, হেরে গিয়েও জিতে যাওয়ার জন্য উদ্দাম প্রয়াস, নারীকে কখনও হারতে দেবে না। আপনার ঘর আপনার সংসার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আগলে রাখুন। সব বজায় থাকবে। আসলে, আমরা নারী আমরা পারি। হে নারী, ‘দেহি সৌভাগ্যম আরোগ্যম’।

Leave a Comment